
ফটো কালেক্টেড
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান, যা জুলাই গণহত্যা ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিণতি। ৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কৃষক, ছাত্র, শিক্ষকসহ বিভিন্ন স্তরে আশার আলো ছড়াতে থাকে। সরকার আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
২১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি উপকমিটি ঘোষণা করা হয়, যার ১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি জানায়, আন্দোলনে মোট ১৫৮১ জন নিহত এবং ৩১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে কতজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তা স্পষ্ট জানা যায়নি। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীরা অভিযোগ করছেন, তারা পর্যাপ্ত উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
এক আন্দোলনকারী, দ্বীন মোহাম্মদ, জানান তার শরীরে এখনও ১৩টি বুলেট রয়ে গেছে, যা তার জীবনযাপনকে কষ্টসাধ্য করে তুলছে। আহতদের আরও অভিযোগ, তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে ভুগছে এবং যথাযথ সহায়তা পাচ্ছে না। বিভিন্ন সংস্থা তাদের তালিকা নিলেও বাস্তবে কোনো সহায়তা মেলেনি।
ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, আহতরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন। জুলাই ফাউন্ডেশন এবং স্বাস্থ্য উপকমিটির কার্যক্রম এখনও কার্যকরভাবে শুরু হয়নি বলে রোগীরা অভিযোগ করেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর কর্মীরা হাসপাতালে রোগীদের পাশে থাকলেও উপকমিটির প্রতিনিধিরা তেমন সক্রিয় নন।
আন্দোলনের এক সমন্বয়ক আয়াত উল্লাহ বেহেস্তী জানান, তিনি আহতদের জন্য হাসপাতালে কাজ করছেন, তবে তিনি কোনো কমিটিতে নেই। তার মতে, যারা কমিটিতে আছেন, তাদের কাছ থেকে আরও কার্যকর ভূমিকা আশা করা যেত।
স্বাস্থ্য উপকমিটির আহ্বায়ক নাহিদা বুশরা জানান, কিছু জায়গায় ওষুধের অভাব রয়েছে, তবে তারা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন। ফান্ডের স্বল্পতার কারণে কিছু জায়গায় ওষুধ সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। জুলাই ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে, তবে বড় পরিসরে কার্যক্রম শুরু হয়নি।
স্বাস্থ্য উপকমিটির সদস্যসচিব তারেকুল ইসলাম জানান, তারা স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে কাজ করছেন এবং প্রতিটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। তবে কিছু রোগী মনে করেন, তাদের বিদেশে পাঠানো হলে তারা আরও ভালো চিকিৎসা পেতেন, যদিও চিকিৎসকরা বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন।
শেষে, স্বাস্থ্য উপকমিটির কার্যক্রম আরও বেগবান হতে পারত বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন চিকিৎসক, তবে তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।